বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না সৌমিত্র চ্যাটার্জি

বিনোদন ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না ভারতীয় বাংলা সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা সৌমিত্র চ্যাটার্জি। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। রোববার (২৫ অক্টোবর) সৌমিত্রর চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে মুম্বাই মিরর।

ভারতীয় একটি নিউজ এজেন্সি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে—সৌমিত্রর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না সৌমিত্র। গত ২৪ ঘণ্টায় রক্তের প্লাটিলেট কমে গেছে। সৌমিত্রর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন: ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ঠিকঠাকমতো কাজ করছে এবং ব্লাড প্রেসারও স্বাভাবিক। কিন্তু তার জ্ঞান না ফেরাটাই অশঙ্কার।

গত ১৯ দিন ধরে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সৌমিত্র চ্যাটার্জি। তার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অরিন্দম কর। এ চিকিৎসক বলেন—৭২ ঘণ্টা আগে যেমন ছিল, তার থেকেও চেতনা আরো কমে গেছে। তার শারীরিক অবস্থা কোনদিকে যাচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। আমরা বিভিন্ন টেস্টের রিপোর্ট পেয়েছি। তা থেকে আমাদের অনুমান যে কোভিড এনসেফেলোপ্যাথি (মস্তিষ্ক অকার্যকর) বাড়ছে। আবার তিনি চিকিৎসায় সাড়া দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন।

গত সপ্তাহে দ্বিতীয়বার কোভিড-১৯ পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ আসার পর সৌমিত্র চ্যাটার্জিকে নন কোভিড সেকশনে স্থানান্তর করা হয়।

করোনা সংকটের কারণে দীর্ঘ দিন টলিউড ফিল্মইন্ডাস্ট্রির শুটিং বন্ধ ছিল। সতর্কতা মেনে সম্প্রতি শুটিংয়ের অনুমতি মেলে। যথাযথ সুরক্ষা মেনে শুটিংয়ে ফিরেছিলেন সৌমিত্র। নিজেকে নিয়ে তৈরি একটি তথ্যচিত্রের শুটিং করছিলেন। এর মধ্যে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। গত ৬ অক্টোবর এই শিল্পীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন সৌমিত্র চ্যাটার্জি। চ্যাটার্জি পরিবারের আদিবাড়ি ছিল বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কাছে কয়া গ্রামে। সৌমিত্রর দাদার আমল থেকে চ্যাটার্জি পরিবার নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে বসবাস শুরু করেন। সৌমিত্র পড়াশোনা করেন—হাওড়া জেলা স্কুল, স্কটিশ চার্চকলেজ, কলকাতার সিটি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

১৯৫৯ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘অপুর সংসার’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। পরবর্তীতে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ১৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সৌমিত্র। মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। কবি ও খুব উচ্চমানের আবৃত্তিকার হিসেবে তার দারুণ খ্যাতি রয়েছে।

২০১২ সালে ভারতের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার লাভ করেন সৌমিত্র। ২০০৪ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণ পান তিনি। তাছাড়া ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কার, ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা তার প্রাপ্তির ঝুলিতে জমা পড়েছে। উল্লেখযোগ্য হলো—ফ্রান্সের ‘লেজিয়ঁ দ্য নর’ (২০১৮)।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com